‘শ্রমিক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, দেশ জুড়ে শিল্প ধর্মঘট

‘শ্রমিক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, দেশ জুড়ে শিল্প ধর্মঘট কেন্দ্রীয় শ্রম কোড আইন বাতিলের পাশাপাশি একাধিক দাবিতে দেশ জুড়ে ধর্মঘট। ২১ টি ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষথেকে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিল্প ধর্মঘটের নেতৃত্বে রয়েছে, সিআইটিইউ, এআইটিইউসি এবং ইউটিইউসি-সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। বাংলাতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। ৩৪ বছরের বাম আমলের পর থেকে ধর্মঘট কার্যত বাংলায় বিরল বললেও ভুল হবে না। যদিও এর পেছনে বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকা বিশেষ ভাবে নজরে পড়েছে। যদিও আজকের ধর্মঘটের ছবিটা একটু ভিন্ন। গতবছর ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে যে চারটি শ্রম কোড চালু করা হয়েছে, তা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। এরই প্রতিবাদে গোটা দেশ জুড়ে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। বাংলাতেও ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। একাধিক জেলায় শ্রমিকেরা ধর্মঘট পালন করছেন। যার মধ্যে বিশেষ ভাবে নজরে পড়েছে জলপাইগুড়ি। শহরের বড় পোস্ট অফিসের গেটে সিআইটিইউর লাল পতাকা টাঙিয়ে গেট বন্ধ রাখা হয়। ‘শ্রমিক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, বাংলা বাঁচাও’ স্লোগানে শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভে শামিল হন। শ্রমিক বিরোধী শ্রমিক কোড বাতিলের দাবিতে সিআইটিইউ এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের অর্জিত অধিকার রক্ষায় সরকার ও মালিক পক্ষের ‘হামলা’ রুখতেই এই কর্মসূচি বলে সংগঠনের দাবি। ব্যাংক, এলআইসি, বাজার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন্ধের সমর্থনে মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মঘটের ডাক দেওয়া শ্রমিকদের দাবি, নতুন শ্রম কোডে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হয়েছে। নিয়োগ কারী সংস্থার কর্মী নিয়োগ ও মুহূর্তের মধ্যে ছাঁটাই প্রক্রিয়াকরণ আরও সহজ। যার ফলস্বরূপ চাকরিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অসুবিধার বিষয়গুলিকে সরকারের নজরে আনতে এই ধর্মঘট। তবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পরিবহন ব্যবস্থায় আংশিক ছাড় রাখা হয়েছে। বাস, টোটো চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *