শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শিল্পসাধনার এক অনন্য নজির গড়লেন শান্তিপুরের শিল্পী বিশ্বজিৎ প্রামাণিক। ২০১০ সালের এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ডান হাত হারান তিনি। যে হাত ছিল তাঁর আঁকার প্রধান ভরসা। কিন্তু বিপর্যয়ের কাছে হার মানেননি বিশ্বজিৎ। দীর্ঘ অবসাদ কাটিয়ে নতুন করে বাঁচার রসদ খুঁজে পেয়েছেন বাম হাতের তুলিতে। প্রথমদিকে ছিল অজস্র বাধা। তবুও পাঁচ থেকে ছয় বছরের নিরলস অনুশীলনে বাম হাতেই তিনি অর্জন করেছেন অসাধারণ দক্ষতা। বর্তমানে পেশায় অটো স্টার্টার হলেও তাঁর পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে শিল্পী সত্তা। ইতিমধ্যেই একাধিক নজরকাড়া চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেছেন তিনি। বিশ্বজিতের তুলি থেকে ফুটে উঠেছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন্ত কথা। পাশাপাশি তিনি এঁকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ব্রজ কিশোর গোস্বামীর ছবিও। শিল্পীর ইচ্ছা, মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপুরে এলে জনসভার মঞ্চেই নিজের হাতে এই প্রতিকৃতি তুলে দেবেন তাঁদের হাতে। সেই লক্ষ্যেই দিনরাত এক করে ছবির শেষ মুহূর্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যদিও বিভিন্ন নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এখনও নিশ্চিত সাড়া মেলেনি, তবুও আশাবাদী বিশ্বজিৎ। তাঁর বিশ্বাস, আন্তরিক প্রচেষ্টা একদিন না একদিন স্বীকৃতি পাবে।ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি ভালোবাসা, আর প্রিয় নেত্রীকে নিজের সৃষ্টি উপহার দেওয়ার স্বপ্ন এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে তাঁর সংগ্রামের গল্প। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে স্বপ্নপূরণের এই লড়াই নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। এখন দেখার, তাঁর সেই বহুদিনের সাধনা আদৌ পৌঁছয় কিনা! কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে দিন গুনছেন শান্তিপুরের শিল্পী বিশ্বজিৎ প্রামাণিক।
ডান হাত নেই! তুলিতে একের পর এক স্বপ্ন আঁকছেন বিশ্বজিৎ

