পর্যটনকেন্দ্র তাজপুরে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি হোটেল নির্মাণ ওয়েব ডেস্ক, উত্তরের কলম,১৮ মার্চ: সংবাদ মাধ্যমে বালিচুরি মাটি চুরি কিংবা পুকুর চুরি শুনলেও আপনারা শোনেননি সমুদ্র চুরির ঘটনা।প্রকাশ্য দিবালোকে সমুদ্রের জোয়ার ভাটার জায়গায় নির্মিত হচ্ছে কংক্রিটের গাড়োয়াল। গাড়োয়ালের উপর দিয়েই হচ্ছে জোয়ার ভাটা। কোথাও হোটেলের দেওয়ালে আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের জল।দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই নির্মাণ কার্য কিভাবে চলছিল তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন?এমনকি প্রশ্ন উঠছে প্রসাশনের ভূমিকা নিয়েও? বেআইনি এই নির্মাণে অভিযান চালিয়ে মান্দারমনি উপকূলীয় থানা আটক করেছে দুজনকে।২০১১ সালে দীঘা শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদ অর্থাৎ ডি.এস.ডি.এ এর অন্তর্ভুক্ত হলেও বেআইনের নির্মাণের চিত্রটা মোটেও পাল্টায়নি। ২০১২ সালে প্রথম তাজপুরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে, জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাজপুরকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে। পাশাপাশি সতর্ক করেছিলেন তাজপুরের বেআইনের নির্মাণ নিয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে তাজপুরে ১৯ টি হোটেল থাকলেও ২০১৪ সালের ৪টি বেআইনি হোটেল ভেঙে দেয় প্রশাসন। ২০১৭ সালে হোটেলের সংখ্যা ৩১ টি থাকলেও এখন হোটেলের সংখ্যা প্রায় ১৫০ এর কাছাকাছি। পোস্টাল রেগুলেটিং জোনের আইনকে না মেনে, বঙ্গোপসাগরের উপকূল তাজপুর পর্যটন কেন্দ্রে নির্মাণ হচ্ছে একাধিক হোটেল। স্থানীয়দের দাবি, বহিরাগত কিছু ধনী ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকাদারদের সঙ্গে সংযোগ রেখে চালাচ্ছে এই বেআইনি নির্মাণ। রামনগর ১ ব্লকের ভূমি দপ্তরের পক্ষ থেকে এর আগে নোটিশ দিলেও বন্ধ হয়নি এই বেআইনি নির্মাণ। মন্দারমনি উপকূলীয় থানা মাধুরী লেক এন্ড রিসোর্ট এ অভিযান চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করে বেশ কিছু নির্মাণ সামগ্রী। তবে রামনগর এক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাই চরণ সাফ জানিয়ে দেন এই বেআইনি নির্মাণ রুখতে হবে, তাই পঞ্চায়েত সমিতির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তাজপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামল দাস এই অবৈধ নির্মাণের দায়ভার প্রশাসনের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজে দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, অবৈধ নির্মাণ দেখা অ্যাসোসিয়েশনের কাজ নয়, আমরা বারবার জানিয়েছি কেউ শোনেনি, প্রকাশ্য দিবালোকে মাসের পর মাস প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে।
পর্যটনকেন্দ্র তাজপুরে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি হোটেল নির্মাণ

