মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমস্ত গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর.

মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমস্ত গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর. ওয়েব ডেস্ক, উত্তরের কলম,৮ এপ্রিল: সালটা ছিল ১৯৯৬ ঘটা করে বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া-তে স্থাপিত হয়েছিল দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হওয়ার পর স্থানীয় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া বয়ে ছিল এলাকায়। কিন্তু ক্রমান্বয়ে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের কাছে।প্রসঙ্গত বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের বেশ কয়েকটি গ্রাম যেমনলটিয়াবনী,জামগাড়ি,হদলবনী, রাধাকৃষ্ণপুর এইসব গ্রামের বাসিন্দাদের কৃষি জমি ঢেকেছে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ছাঁইে।গ্রামবাসীদের দাবি, তাদের তিন ফসলী জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ হতো তাদের। কিন্তু তাদের স্বপ্নের মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের থেকে নির্গত ছাঁই তাদের এখন তাদের দুশ্চিন্তার মুল কারণ।ডিভিসি কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে ২০২১ সালে খানিকটা ক্ষতিপূরণ মিললেও। ২০২২ থেকে টানা ২০২৫ পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি গ্রামবাসীরা এমনটাই জানান তারা। তিন ফসলী জমিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই এর জন্য কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় দিশাহীন হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। ক্ষতিপূরণের দাবিতে একাধিকবার একাধিক স্তরের দারস্থ হলেও সুরাহা মেলেনী, মিলেছে শুধুই আশ্বাস। তাই আজ সমস্ত গ্রামের বাসিন্দারা সমবেত হয়ে রীতিমত মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমস্ত গেট অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন। তাদের একটাই দাবি ডিভিসি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে যদি ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না মেলে তাদের আন্দোলন আরো বৃহত্তর আকারে সংঘটিত হবে।যদিও ডিভিসি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পি.পি শাহ জানান, “এই অবরোধের জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি হবে না”। তিনি আরোও জানান “জয়েন্ট লেভেলে একটা কমিটি গঠন করে কি পরিমানে ক্ষতিপূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দেওয়া যায় সেটা এখন আলোচনার বিষয়”।তবে বিষয় যাই হোক না কেন কথায় আছে ‘আশায় বাঁচে চাষা’। ডিভিসি কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে কতটা ক্ষতিপূরণ মেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *