জোর করে জমি দখল করে চলছে ক্লাব ঘর নির্মাণ,অভিযোগ শাসকদলের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে
ওয়েব ডেস্ক, উত্তরের কলম,১৯ মার্চ:
অন্যের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বেআইনিভাবে পাকা দোতালা ক্লাব ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী সহ স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড সিংহপুর এলাকায়। জানা যায়, সিংহপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সুবোধ মন্ডল ২৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০০ সালে ওই এলাকার গৌর মন্ডল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক কাঠা (২ শতক) জায়গা ক্রয় করে, সুবোধ মন্ডলের নামে ওই জায়গার দলিল এবং রেকর্ড রয়েছে, তিনি ওই জায়গার সরকারি খাজনা পর্যন্ত দেন, বর্তমানে তারই ব্যক্তিগত জায়গা। সেই জায়গা জোরপূর্বক দখল করে পাকা দোতলা ক্লাব ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কাউন্সিলর প্রভাতী জানার স্বামী শচীনন্দ জানা সহ স্থানীয় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
অন্যের জায়গায় জোরপূর্বক দখল করে পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে বেআইনিভাবে প্রায় দু মাস ধরে পাকা দোতলা ক্লাব ঘর নির্মাণ করে চলেছে, জমির মালিক সুবোধ মন্ডল ক্লাব ঘর নির্মাণে বাধা দিলেও বাঁধাকে কর্ণপাত না করেই তিনি ঘাটাল পৌরসভা BLRO, SDLRO থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে তিনি জানান। তার ব্যক্তিগত জায়গায় দিব্যি নির্মাণ হয়ে চলেছে পাকা দোতলা ক্লাব ঘর।
যদিও ওই ক্লাব ঘরে কর্মরত রাজমিস্ত্রিদের জিজ্ঞাসা করা হলে তারা সরাসরি বলেন আমরা আজই কাজে লেগেছি তবে যারা কাজে লাগিয়েছে তাদের কারোরই নাম জানিনা, স্বভাবতই বোঝা যাচ্ছে তারা অভিযুক্তদের নাম এড়িয়ে যাচ্ছে।যদিও ওই ক্লাব ঘর নির্মাণে বিষয়ে অভিযুক্ত এক স্থানীয় যুবককে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সুবোধ মণ্ডলের জায়গায় ছাড় দিয়ে তার পাশে জায়গায় ক্লাব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমকে বাকি ক্লাব সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তবে ওই ক্লাব ঘর নির্মাণের বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর এর স্বামী শচীনন্দ জানা পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ওই জায়গাটি কারো ব্যক্তিগত জায়গা নয় সরকারি খাস জায়গা, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে বা জেনে আসছি, স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাকে একটি লিখিত দেয় যে ওই সরকারি খাস জায়গার উপর তারা ক্লাব ঘর নির্মাণ করতে চায় তাই আমি অনুমতি দিয়েছিলাম ক্লাব ঘর নির্মাণ করার। এই বিষয়ে ঘাটাল পৌরসভার চেয়ারম্যান তুহিন কান্তি বেরার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কিছুই তেমন তিনি বলেনি তিনি জানান, “ওই ক্লাব ঘর নির্মাণের বিষয়ে আমার কাছে একটা অভিযোগ জমা পড়েছে, বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে”।
তবে অন্যের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে পৌরসভার অনুমতি ছাড়া কি করে বেআইনিভাবে ক্লাব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন?

