অবসরপ্রাপ্ত হয়েও ক্লাস নিচ্ছেন স্যার.

অবসরপ্রাপ্ত হয়েও ক্লাস নিচ্ছেন স্যার. ওয়েব ডেস্ক, উত্তরের কলম,১১ এপ্রিল: আদালতের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষা কর্মী।যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। অযোগ্যদের আলাদা না করতে পারায় যোগ্যরাও চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তার ফলে প্রায় অচলাবস্থা দেখা দিচ্ছে বিদ্যালয়গুলোতে, পড়ুয়াদের ভবিষ্যত‌ও প্রশ্নের মুখে?এইসবের মাঝে বাঁকুড়ার খাতড়ার সুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অন্য ছবি ধরা পড়ল। গত জানুয়ারি মাসে দীর্ঘ ৩৫ বছর শিক্ষকতার পর অবসর গ্রহণ করেছেন খাতড়া বাজারের ইন্দকুড়ির বাসিন্দা শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নান। সুপুর উচ্চ বিদ্যালয় তো বটেই তার সাথে খাতড়া বাজারের অগনিত ছাত্র-ছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষক মান্নান স্যার। অবসর বলে কোনো শব্দ নেই তার অভিধানে। তাই সরকারিভাবে অবসর গ্রহণের পর আজও শিক্ষাব্রতে অবিচল রয়েছেন। বিনা পারিশ্রমিক‌ই নিয়মিত বিদ্যালয়ে গিয়ে জীবন বিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক সহ ২৮ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ও পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ১১৬০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে সুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। ‌এর মধ্যে জীবন বিজ্ঞানের মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। ফলে একজন শিক্ষকের পক্ষে সব ক্লাস চালানো কঠিন। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মান্নান স্যার। ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, স্যার তাদের খুবই প্রিয়, স্যারও খুব স্নেহ করেন তাদের। প্রথম দিনের ক্লাসেই স্যার শিখিয়েছিলেন, যার মনে প্রশ্ন জাগে না সেই বোকা।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র লায়েক জানান, মান্নান বাবু বিদ্যালয়ের সম্পদ। তিনি অভিভাবকের মত রয়েছেন তাদের সবার উপরে। পড়ুয়াদের টানেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন। বর্তমানে এমন অনেক অভিভাবক রয়েছেন যারা মান্নান বাবুর ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন। এখনও তারা অসুবিধায় পড়লে বিদ্যালয়ে ছুটে আছেন মান্নান স্যারের কাছে পরামর্শ নিতে।ছাত্র-ছাত্রী অন্ত প্রাণ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ আব্দুল মান্নান জানান, যতদিন সামর্থ্য থাকবে ততদিন বিদ্যালয়ে আসবেন তিনি। একইসঙ্গে পরিচালন কমিটি ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিদ্যালয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *