সাগরে স্বপ্নের ‘বাংলার বাড়ি’,পাকা ছাদের তালিকায় কতো জন!

সাধারণ মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-র দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সাড়ম্বরে শুরু হলো। দক্ষিণ 24 পরগনার সাগর ব্লকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ শুরু। দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হচ্ছে। কারণ সাগরের বাসিন্দাদের কাছে ভিটে মাটি হারানোর যন্ত্রণা দীর্ঘদিনের। নদীর ভয়াল গ্রাসে ঘরবাড়ি হারিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পরিবর্তনের দিন গুনতেন। কবে নতুন করে আবার সব ফিরে পাবে। মাথায় ছাদ নেই। রোদ ঝড়-বৃষ্টিতে দিন যাপন করা মানুষগুলো অসহায় মুখ। নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো অসহায় পরিবারগুলোর কাছে এই প্রকল্প এখন নতুন জীবনের দিশারি। সম্প্রতি সাগর ব্লকের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মনসাদ্বীপ খাসমহাল গ্রামে এক অভিনব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পর্যায়ের সূচনা হয়। ১৯৯৪-৯৫ সালে সাগরের ঘোড়ামারা দ্বীপের ভয়াবহ ভূমি ক্ষয়ে বাস্তুহারা তফসিলি জাতিভুক্ত পরিবারগুলো দীর্ঘকাল কাঁচা ঘরে কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এদিন ১৫টি বাড়িতে একযোগে প্রথা মেনে ‘ক্লাস্টার মোড’-এ ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। সাগর ব্লকে এবার মোট ৪,৫৫০ টি পরিবার এই ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে। প্রতিটি পরিবার বাড়ি তৈরির জন্য সরাসরি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষণা হয়েছে। পাকা বাড়ির পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে শৌচাগার প্রদান করে ১০০ শতাংশ স্যানিটেশন নিশ্চিত করা হচ্ছে। এদিন ১৮৫ জন নতুন উপভোক্তার হাতে অনুমোদনপত্র তুলে দেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি। ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা জানান, ঝড়-বৃষ্টির আতঙ্ক কাটিয়ে ‘দিদি’র কৃপায় অবশেষে তাঁরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন। প্রশাসনের এই তৎপরতায় সুন্দরবনের উপকূল জুড়ে এখন খুশির হাওয়া। সাগরে স্বপ্নের ‘বাংলার বাড়ি’। পাকা ছাদ পাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার, উৎসবের মেজাজে করা হলো ভূমিপূজা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *