পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা আলু চাষের জন্য পরিচিত। আর হাতে গোনা কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে মাঠ থেকে আলু তোলার তোড়জোড়। কিন্তু ফলন ঘরে তোলার আনন্দ এবার যেন ভাটা পড়েছে। আলু তোলার আগেই চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বস্তার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে বস্তা সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে একটি আলুর বস্তার দাম ১০ থেকে ১১ টাকার মধ্যেই থাকে, সেখানে বর্তমানে সেই একই বস্তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৮ টাকা পর্যন্ত। কৃষকদের দাবি, একদল অসাধু ব্যবসায়ী আগেভাগেই কম দামে বস্তা কিনে গুদামজাত করে রেখেছেন। উদ্দেশ্য, আলু তোলার মরশুমে সংকট তৈরি করে চড়া দামে বস্তা বিক্রি করে মুনাফা লোটা। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও চাষিদের মুখে হাসি নেই। কারণ সার, আলু বীজ এবং শ্রমিকের মজুরি সব মিলিয়ে বিঘাপ্রতি খরচ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। তার উপর বাজারে আলুর বর্তমান দর যথেষ্ট কম। এই অবস্থায় আলু বিক্রি করলে বিঘাপ্রতি কয়েক হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তার ওপর বস্তার এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি যেন ফোড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। যদিও আলুর বস্তা ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বস্তা তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জোগান কম থাকাতেই দাম বেড়েছে বলে তাঁদের বক্তব্য। তবে কৃষকরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। আর্থিক চাপে জর্জরিত চাষিরা এখন প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে বস্তার কালোবাজারি রুখে ন্যায্য দামে বস্তা সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
আলুর বস্তায় আগুন! কৃষকদের মাথায় হাত

