পূর্ব বর্ধমানের দোগাছিয়া গ্রামে দোল উৎসব মানেই এখন শুধু আবিরের রঙ নয়। বরং বিশালাকৃতির মিষ্টির মাধুর্য। প্রায় পাঁচশো বছরের ঐতিহ্যকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের এই জনপদে বসেছে বহুল পরিচিত ‘মিষ্টি মেলা’। চারদিনের এই উৎসব ক্রমশ এমন পরিচিতি পেয়েছে যে স্থানীয়দের মুখে দোলের চেয়ে ‘মিষ্টি মেলা’ নামটাই বেশি শোনা যায়। মেলার মূল আকর্ষণ নজরকাড়া ‘দু’হাজারি’ মিষ্টি। আড়াই থেকে তিন কেজি ছানা দিয়ে তৈরি প্রতিটি মিষ্টির ওজন পৌঁছে যায় ছয় থেকে সাত কেজি পর্যন্ত। গুণগতমান নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। সাধ্যের মধ্যে দাম। ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০, ১০০০, ১৫০০ পেরিয়ে সরাসরি ২০০০ টাকা! বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ মেলা প্রাঙ্গণে দেখা গেল উপচে পড়া ভিড়। কেউ দোকানের সামনেই বসে মিষ্টির স্বাদ নিচ্ছেন, কেউ আবার বাড়ির জন্য প্যাক করিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পছন্দসই মিষ্টির জন্য অনেকেই আগাম অর্ডার দিয়ে রাখছেন। বিক্রেতাদের কথায়, শুধু স্বাদ নয় ঐতিহ্য আর বিশাল আকৃতির আকর্ষণেই প্রতি বছর এই মেলা জমে ওঠে। যদিও এবারের মেলায় প্রথম দু’দিন ভিড় কিছুটা কম ছিল।তবে সামনের দিনগুলোতে জনসমাগম আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী উদ্যোক্তারা। সব মিলিয়ে ঐতিহ্য, আকার ও স্বাদের অনন্য সংমিশ্রণে দোগাছিয়ার ‘মিষ্টি মেলা’আবারও হয়ে উঠেছে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু।
পাঁচশো বছরের দোল উৎসবে বাহারি মিষ্টিতে জমজমাট

