প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে তুঙ্গে রাজনীতি! ২০০ টি বাস বাতিল করল তৃণমূল!আসানসোলের পোলো ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে চলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা ঘিরে বিতর্ক। সভার ঠিক আগে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তুমুল বিতর্ক।বিজেপির পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তুলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দার দাবি করেছেন, কুলটি বিধানসভা এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে সভায় আনার জন্য বুক করা প্রায় ২০০টি বাস তৃণমূল কংগ্রেসের চাপে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাস মালিকদের শুধু বুকিং বাতিল করতেই বাধ্য করা হয়নি, তাদের দেওয়া অগ্রিম টাকাও ফেরত দিতে বলা হয়েছে। কেশব পোদ্দার বলেন, কুলটি এলাকায় এ ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি আগে কখনও দেখা যায়নি। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন বিধায়ক নির্বাচিত হলেও এমন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান ততই নিচে নামছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বাস মালিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদি তারা বিজেপি সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রীর সভায় নিয়ে যেতে বাস দেন, তাহলে তাদের গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ঘটনাকে গুণ্ডাগিরি বলে আখ্যা দিয়ে পোদ্দার বলেন, গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। তৃণমূলের শ্রমিক নেতা রাজু আহলুওয়ালিয়া বলেন, ‘এই অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, যেসব বাসের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলির অধিকাংশই তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ শ্রমিকদের দ্বারা পরিচালিত। তিনি বলেন, “যদি কোনও বাস তৃণমূলের শ্রমিকদের দ্বারা চালিত হয়, তাহলে তারা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা নিয়ে সভায় অংশ নেবেন না। এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এখানে কোনও জোরজবরদস্তি বা হুমকির প্রশ্নই নেই।’ এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে বিজেপি এটিকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূল একে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার ফল বলেই ব্যাখ্যা করছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক কারবারিরা।
প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে তুঙ্গে রাজনীতি

