SIR গেরো! বিয়ে ফেলে শুনানি কেন্দ্রে হাজির বর

ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার ২৬২ নম্বর বুথে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে অসন্তোষের ছবি। আজই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আনোয়ার হোসেনের। পাত্রীর বাড়ি হাওড়ায়। কিন্তু সেই আনন্দের দিনে বিপত্তি নিয়ে এলো এস আই আর শুনানি। বিয়ের মন্ডপের বদলে বরকে হাজির হতে হলো শুনানি কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনোয়ার হোসেন সহ ওই বুথের মোট ৩৮ জন ভোটারকে ষাটমনিষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামের বানান ভুল ও ‘আন-ম্যাপিং’-এর মতো সাধারণ ত্রুটির কারণেই এই নোটিশ। ফলে বিয়ে করতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথি হাতে নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হন বর ও তাঁর বরযাত্রীর সদস্যরাও। এই বুথে মোট ভোটার প্রায় ১১০০ জন। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের কাছে এসআইআরের নোটিশ পৌঁছেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে , এত বড় সংখ্যক ভোটারের তথ্য যদি ভুল থাকে, তবে প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া কোথায়?ভোটারদের অভিযোগ, এসআইআরের নামে অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষ। কেউ দিনমজুরের কাজ করে কেউ আবার কারখানায় যায়। কঠিন রোগে আক্রান্ত বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে এমন সব মানুষদের ও শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে হচ্ছে। যা ঘিরে কার্যত হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তবু হাজিরা দিতে না এলে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা পিছু ছাড়ছে না। তাইতো উপায় না পেয়ে বিয়ের দিন বরের বেশে সুনানি কেন্দ্রে হাজির হলেন আনোয়ার হোসেন। শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছে? খুব উগরে দেন আনোয়ার। তাঁর কথায়, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। অথচ বিয়ের আগে এখানে ছুটে আসতে হল। এটা কি প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নয়?’ ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যে প্রক্রিয়া চলছে, তা কি সত্যিই স্বচ্ছ! নাকি আমজনতার ভোগান্তির নতুন নাম হয়ে উঠছে এসআইআর? এখন একাধিক মহলে এই প্রশ্ন গুলিই ঘুরে ফিরে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *