ফুরফুরা শরীফ এ ট্রেন চলবে সেই আসায় চাষের জমি রেলকে দিয়েও আজও হলনা রেল ব্যবস্থা

ফুরফুরা শরীফ এ ট্রেন চলবে সেই আসায় চাষের জমি রেলকে দিয়েও আজও হলনা রেল ব্যবস্থা ওয়েব ডেস্ক, উত্তরের কলম,১৯ মার্চপ্রায় ১৫ বছর আগের কথা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ঘোষণা করেছিলেন যে ফুরফুরা শরীফ অবধি ট্রেন ছুটবে।এই ঘোষণার পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন এই এলাকার মানুষ।‌ ডানকুনি থেকে জঙ্গলপাড়া, শিয়াখালা হয়ে ফুরফুরা শরিফ, সাড়ে আঠারো কিমি রেলপথের শিলান্যাস হয়েছিল ২০১০ সালে প্রকল্প ঘোষণার পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেল মন্ত্রক জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে। গ্রামে ট্রেন আসবে, এই আনন্দে গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন জমি দিতে। যে তিন ফসলি জমিতে ফসল ফলিয়ে সংসার টেনেছে কৃষক পরিবার অক্লেশে তাও রেলের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা। প্রস্তাবিত রেলপথকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল স্টেশন তৈরির কাজ ও খোলা হয়েছিল সংরক্ষিত দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কাউন্টার। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে বাজেটে কোনোরকম উল্লেখ নেই। আর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় ডানকুনি-ফুরফুরা শরিফ রেল প্রকল্পের জমি আজ পরিত্যক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে। আশা ভঙ্গ হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের। ফুরফুরা এলাকার বাসিন্দা সেখ উজির আলি রেলপথ নির্মাণে নিজের তিন ফসলি জমি দিয়েছিলেন তিনি। জমির আয়তন ছিল সারে তিন বিঘা। তাঁর কথায়, গ্রামে ট্রেন এলে এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হতেন। এই আশাতেই জমি দিয়েছিলাম। বিনিময়ে জমির কিছু দাম পেয়েছি। আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজন হয়তো মিটেছে। কিন্তু যে স্বপ্ন দেখে জমি দিয়েছিলাম, তা পূরণ হল কই? হ্যাঁ কিছু জমি চাষ হলেও অনেক জমি আজ বন্ধ্যা। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শেখ অখিল আহমেদ বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন তিনি ছিলেন রেলমন্ত্রী এই প্রকল্পটা সূচনা করেছিলেন কিন্তু পরেও অধীর চৌধুরী রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ওনাকেও বিষয়টা জানানো হয় তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় আমরা মনে করছি ফুরফুরার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে পীর সাহেবরাও এগিয়ে আসা উচিত এবং মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীকে আবেদন জানানো অবশ্যই প্রয়োজন। আরেক জমিদাতা আনোয়ার আলী শেখ আনোয়ার আলী বলেন, রেল নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না ফুরফুরার পীর সাহেবদের এগিয়ে আসা উচিত মুখ্যমন্ত্রী ফুরফুরা এলো অথচ রেল নিয়ে কোন কথা হলো না শুধু নিজেদের কথা বলল। এমপি ও এমেলে রাও কোন ভূমিকা পালন করছে না।ফুরফুরায় রেল হলে সার্বিক উন্নয়ন হবে। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা মেহরাব সিদ্দিকী বলেন, ডানকুনি-ফুরফুরা শরিফ রেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। তবে রেল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আমি কথা বলেছি লিখিত দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *