তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল, তালাবন্ধ দলীয় কার্যালয়!

পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার, পূর্বস্থলী ব্লক। ওই অঞ্চলের দোগাছিয়াতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়। সেই দলীয় কার্যালয় নাকি তালাবন্ধ। প্রায় ৩০ মাস ধরে তালাবন্ধ। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল শিবির। দীর্ঘদিন যাবত তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ। বর্তমানে তা গড়িয়েছে ‘তালাবন্ধ’ পরিস্থিতির দিকে। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলের জেরে দলীয় কার্যালয় তালাবন্ধ। প্রায় আড়াই বছর বন্ধ তৃণমূল কার্যালয়।কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নয়, বরং দুপক্ষই নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে আলাদা আলাদা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্য এক পক্ষ ঢুকতে না পারলে অন্য পক্ষও ঢুকতে পারবে না। দলীয় কার্যালয় ব্যবহার করতে না পেরে কর্মীরা কখনও শিব মন্দিরে, কখনও মাঠে অথবা অন্যের বারান্দায় বসে সাংগঠনিক কাজ সারছেন। গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে স্থানীয় ও জেলা নেতৃত্বের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি ক্রমে বেড়েই চলেছে। কর্মীদের একাংশের মতে, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি নবকুমার করের অনুগামীরা প্রথম তালা লাগায়। পাল্টা হিসেবে অন্য গোষ্ঠীও দ্বিতীয় তালাটি ঝুলিয়ে দেয়। স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় ও মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সমাধানের নিয়ে কাটেনি ধোঁয়াশা। জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক নবকুমার কর জানিয়েছেন, ‘কিছু নেতা নিজেদের সর্ব শক্তিমান ভেবে নিয়েছে। যদি তাই হয় তাহলে তালা কেন খুলতে পারছে না। কেউ এতো দিন দলীয় কার্যালয় টাকা বন্ধ থাকবে? নিজেদের ভগবান না ভেবে দলের কথা ভাবুন।’বিষয়টি নিয়ে ইতি মধ্যে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এই লড়াই আদর্শের নয় বরং ‘কাটমানি’র ভাগ বাঁটোয়ারার। তাদের মতে, দোগাছিয়ায় তৃণমূলের সংগঠন এখন অস্তিত্ব সংকটে।পঞ্চায়েত ভোটের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এই এলাকাটিতে তৃণমূলের অন্দরের ফাটল যে মেরামত হয়নি, দোগাছিয়ার এই জোড়া তালা তারই প্রমাণ। দলীয় কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ানোয় নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *